হলফনামায় চমক: শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা ও সম্পদের বিস্ময়কর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা যাচাই-বাছাই শুরু হতেই একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে আসছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণ নিয়ে বিভিন্ন আসনে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক।

ঢাকা-৬ আসন
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেনের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। নগদ ও ব্যাংকে জমা রয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। কৃষি ও অকৃষি জমির মূল্য এক কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি। পেশা হিসেবে তিনি চাকরি ও ব্যবসা উল্লেখ করলেও শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেননি। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬২ লাখ টাকা।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল হান্নান হলফনামায় জানিয়েছেন, তার কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ১১ লাখ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৮ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে ২১টি মামলা রয়েছে। পেশায় শিক্ষক আব্দুল হান্নান পিএইচডিধারী এবং তার বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকা।

ঢাকা-৮ আসন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হলফনামায় পেশা হিসেবে মার্কেটিং কনসালট্যান্ট উল্লেখ করেছেন। চাকরি থেকে তার বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকা। নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকা। তার নামে কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রার্থীরা
চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে সাড়ে তিন কোটি টাকার সম্পদ। স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের তথ্যও দিয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমফিল, পেশা ব্যবসা।
চট্টগ্রাম-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর তুলনায় তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি। হুম্মামের সম্পদ ৮৪ লাখ টাকা হলেও স্ত্রীর সম্পদ ৪০ কোটির বেশি। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে নিজেকে স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেছেন।

উত্তরাঞ্চল ও গাজীপুর
পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী সারজিস আলমের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৩ লাখ টাকা। তার একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর এবং বার্ষিক আয় নয় লাখ টাকা।
গাজীপুর-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নানের হলফনামা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নিজেকে এলএলবি পাস দাবি করলেও এবার তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘স্বশিক্ষিত’ উল্লেখ করেছেন। আইনজ্ঞরা বলছেন, হলফনামায় ভুল বা গোপন তথ্য দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ, যা প্রার্থিতা বাতিলের কারণ হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রার্থীদের দাখিল করা সব তথ্য এখন যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় রয়েছে। বড় ধরনের অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

error: Content is protected !!