ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ পুলিশের অনুরোধের এখনো কোনো সাড়া দেয়নি ভারত। ফলে আসামি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখা থেকে গত ১৬ মার্চ ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসের কাছে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ফেরত আনার বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। প্রথম চিঠির জবাব না পাওয়ায় দ্বিতীয়বার আবারও যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলেও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আসামিদের বিষয়ে কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে বাংলাদেশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, হাদি হত্যাকাণ্ডের পরদিনই দুই আসামি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যায়। পরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
ভারতের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত ২৪ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগরের একটি আদালত হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-এর কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নেওয়া হয় এবং সেখানে এনআইএর বিশেষ আদালতে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন,
“যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভারত থেকে দ্রুত সাড়া না পাওয়া গেলে এই মামলার তদন্তে সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারীদের (গডফাদার) শনাক্ত করতেও দেরি হতে পারে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
দেশ এডিশন / ডেস্ক রিপোর্ট