শেখ হাসিনার শাসনামলে তাকে একজন ‘ধর্মপ্রাণ ইবাদতকারী’ হিসেবে ফুটিয়ে তোলার জন্য এক ধরণের সুসংগঠিত রাজনৈতিক প্রচার চালানো হতো। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে দলীয় কর্মীরা প্রায়ই দাবি করতেন যে, শেখ হাসিনা প্রতিদিন রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েন এবং অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপন করেন।
তবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং পুরোনো সংবাদগুলো বিশ্লেষণ করলে এই প্রচারণার পেছনের ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠছে।
প্রচারণার ধরণ:
১. ‘রাত ৩টায় ইবাদত, ভোর থেকে কাজ’গত এক দশকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মন্ত্রী ও নেতার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে যে, শেখ হাসিনা খুব অল্প সময় ঘুমান। ওবায়দুল কাদের থেকে শুরু করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বিভিন্ন সময় জনসভায় বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী রাত ৩টা থেকে তাহাজ্জুদ পড়েন, কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং খুব ভোরে কাজে যোগ দেন।” এই বয়ানটি মূলত তৈরি করা হয়েছিল তার একটি ‘আধ্যাত্মিক ও অপরাজিত’ ভাবমূর্তি তৈরির জন্য।
২. সোশ্যাল মিডিয়া ও ভাইরাল ছবির রহস্যবিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার জায়নামাজে বসে থাকা বা তসবিহ হাতে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিকল্পিতভাবে ভাইরাল করা হতো। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো এবং নেটিজেনরা একাধিকবার দেখিয়েছেন যে, এই ছবিগুলোর অনেকগুলোই ছিল সরকারি ইভেন্ট বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানের অংশ, যা ব্যক্তিগত ইবাদতের চেয়ে ‘ফটো-অপারেশন’ হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান হয়েছে।
বৈপরীত্য ও সমালোচনা বিগত বছরগুলোতে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশ দমন (যেমন: শাপলা চত্বরের ঘটনা) এবং আলেম-ওলামাদের কারাবরণের ঘটনাগুলো তার ‘ধর্মপ্রাণ’ ইবাদতকারীর ইমেজের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
হাসিনার ‘তাহাজ্জুদ নামাজ’ মিথ্যা রাজনৈতিক বয়ান