দীর্ঘ ২৫ বছর পর চাঁদপুরে নিজেদের শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধার করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি প্রার্থী এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী বিএনপি) প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, চারটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। অধিকাংশ আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান ছিল ৬৭ হাজার থেকে এক লাখ ১৫ হাজারের বেশি। অনেক ক্ষেত্রে পরাজিত প্রার্থীরা বিজয়ীর প্রাপ্ত ভোটের এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন।
চাঁদপুর জেলায় বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তৎকালীন ছয়টি আসনের সবকটিতেই বিএনপি জয়লাভ করেছিল। পরবর্তীতে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে একটি আসন কমে যায়। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে পাঁচটি আসনের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পায় দলটি। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জেলার সবকটি আসন দখলে নেয় আওয়ামী লীগ।
আসনভিত্তিক ফলাফল
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডা. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে ৬৬ হাজার ৮৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবু নছর মো. মকবুল আহমেদ পান ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর–মতলব দক্ষিণ) আসনে বিএনপির মো. জালাল উদ্দিন ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৫০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পান ৫৪ হাজার ৭৩৩ ভোট।
চাঁদপুর-৩ (সদর–হাইমচর) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১০ ভোট পেয়ে ৬৭ হাজার ১৯৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহাজাহান মিয়া পান ৯৬ হাজার ৮১১ ভোট।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী বিএনপি) প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নান চিরিং প্রতীকে ৭৩ হাজার ৮৪২ ভোট পেয়ে ৪ হাজার ৬২৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। বিএনপির প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশীদ পান ৬৯ হাজার ২১৫ ভোট।
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি) আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ১ লাখ ৮১ হাজার ৯১১ ভোট পেয়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির ডা. নিয়ামুল বশির পান ৭১ হাজার ৮৫০ ভোট।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনে চাঁদপুরে বিএনপির এই বিপুল বিজয় দীর্ঘদিন পর জেলায় দলটির রাজনৈতিক শক্ত অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।