৩ দিনেও রহস্য উদঘাটন হয়নি গুলিবিদ্ধ বিএনপি নেতা মুকুলের

মাজহারুল ইসলাম বাদল, নবীনগর থেকে
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান মুকুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার তিন দিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত ঘটনার কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নবীনগরের সাধারণ মানুষ বলছেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা নবীনগরের ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়। এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনা দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর নবীনগরে আগে কখনো ঘটেনি বলে জানান তারা।

গত ২৪ অক্টোবর (শুক্রবার) রাতে নবীনগর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান মুকুলকে নিজ বাড়ির গেটে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।

২৫ অক্টোবর মুকুলের একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী জানান, “মুকুল ভাই বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তার চিকিৎসা ও পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা বিএনপির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক এবং নবীনগর থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী জনাব কাজী নাজমুল হোসেন তাপস।”

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখনো হামলাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুর ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে। এ ঘটনায় একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”

এদিকে, তিন দিনেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় মুকুলের পরিবার চরম উদ্বেগে রয়েছে। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নবীনগর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, “মুকুলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটিও কি বউ সাজ বিউটি পার্লারের ঘটনার মতো আড়ালে চলে যাবে?”

error: Content is protected !!