আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ৮টি আসনে ব্যালটে বিএনপির দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ থাকছে না। জোটভিত্তিক সমঝোতা, প্রার্থিতা বাতিল এবং দলবদলের জটিল সমীকরণের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, জোটের শরিকদের জন্য বিএনপি মোট ১১টি আসন ছেড়ে দিলেও এর মধ্যে ৭টি আসনে শরিক প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে, বাকি কয়েকটি আসনে সংশ্লিষ্ট নেতারা নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন।
রোববার ঋণখেলাপের মামলায় আদালত কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী–এর মনোনয়নপত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল করে। ফলে ওই আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় ধানের শীষ প্রতীকও থাকছে না। একইভাবে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর–এর প্রার্থিতা নিয়ে উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি রয়েছে। তার প্রার্থিতা বাতিল হলে ধানের শীষবিহীন আসনের সংখ্যা ৯-এ পৌঁছাতে পারে।
নির্বাচনি সমঝোতার অংশ হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম–এর জন্য চারটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এসব আসনে লড়ছেন—
সিলেট-৫: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক
নীলফামারী-১: মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী
নারায়ণগঞ্জ-৪: মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব
এ ছাড়া অন্যান্য শরিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন)
ঢাকা-১২: সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)
পটুয়াখালী-৩: নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ)
তারা সবাই নিজ নিজ দলের প্রতীক নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীক পেতে দলত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন কয়েকজন নেতা। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।
এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (নড়াইল-২) ও এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩) বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়েছেন।
এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
সার্বিকভাবে, জোট রাজনীতি ও আইনি জটিলতার কারণে বেশ কিছু আসনে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী প্রতীক অনুপস্থিত থাকছে—যা নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।