চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে অবাধে চলাচল করছে বিপুল সংখ্যক অনিবন্ধিত সিএনজি চালিত অটোরিকশা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ২০ হাজার অনিবন্ধিত সিএনজি দীর্ঘদিন ধরে এসব সড়কে চলাচল করছে, যার ফলে গত এক দশকে সরকার শত কোটি টাকার বেশি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে উঠেছে অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড, যেখানে দিন-রাত সমানতালে চলছে এসব যানবাহনের দৌরাত্ম্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু চক্রের যোগসাজশে অনিবন্ধিত এসব যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। নিয়মিত চাঁদাবাজির মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জারটেক মোড়ে প্রতিদিন শত শত অটোরিকশা সড়কের দুই পাশ দখল করে রাখে, যার ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। একইভাবে পিএবি (পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী) সড়কের চৌমুহনী এলাকাতেও কয়েক হাজার অনিবন্ধিত সিএনজির অবস্থান দেখা যায়। বিশেষ করে অফিস ছুটির সময় এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
একজন পরিবহন শ্রমিক নেতা জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার অনিবন্ধিত সিএনজি চলাচল করছে। একটি অটোরিকশার নিবন্ধন করতে আনুমানিক সাড়ে ১৩ হাজার টাকা এবং প্রতিবছর নবায়নে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এই ব্যয় এড়াতেই অনেক মালিক অবৈধভাবে যান চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মাসিক চুক্তির মাধ্যমে এসব যান চলাচল করছে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলার ট্রাফিক বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের বাধার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, একটি অটোরিকশার প্রথম নিবন্ধন ফি (ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনসহ) প্রায় ১১ হাজার ৯৩৯ টাকা এবং রুট পারমিট প্রতি তিন বছরের জন্য ১ হাজার ১০৪ টাকা। এছাড়া প্রতি বছর ফিটনেস ও ট্যাক্স বাবদ প্রায় ৬ হাজার ৪৮৭ টাকা আদায় হওয়ার কথা। সেই হিসেবে গত ৮-১০ বছরে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ প্রান্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রতিনিয়ত শত শত অনিবন্ধিত সিএনজির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এসব যান কর্ণফুলী, বাঁশখালী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ ও পেকুয়া সড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।
এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।