অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন জুলাই শহীদদের বাবা!

দেশ এডিশন অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: ১০ minutes ago

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া এক তরুণ শিক্ষার্থীর সরকারি অনুদানের অর্থ নিয়ে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের (৫০) বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ছেলের মৃত্যুর পর পাওয়া অনুদানের অর্থ দিয়ে বিপুল অঙ্কের স্বর্ণালংকার ক্রয় করে দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন করেছেন।

শহীদ পরিবারের একজন সদস্যের এমন আচরণ এবং অনুদানের অর্থের এই ধরনের ব্যবহার প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সংঘটিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের অন্যতম শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে শহীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে অনুদান প্রদান করা হয়। তবে অতি সম্প্রতি শাহরিয়ারের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন সেই অনুদানের টাকা থেকে প্রায় সোয়া ৫ লাখ টাকার মূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং বিয়ের অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে এই বিপুল খরচের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন করেন। ছেলের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত রাষ্ট্রীয় অনুদানের টাকা দিয়ে বাবার এমন বিলাসী ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সহজে মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ঈশ্বরগঞ্জের স্থানীয় জনমনে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এলাকাবাসীর একাংশের মতে, যেখানে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে এবং তাঁদের পরিবারের কল্যাণে এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এই অর্থের এমন ব্যক্তিগত ব্যবহার শহীদদের আত্মত্যাগকে অবমাননা করার শামিল।

এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নৈতিকতার জায়গা থেকে এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

error: Content is protected !!