দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও জনস্বস্তি ফেরানোকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো এবং রাজস্ব ঘাটতি দূরীকরণে বিশেষ কৌশলের প্রতিফলন থাকছে এবারের বাজেটে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি পাস হলে তা হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট।
বাজেটের আকার ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। একই সাথে নতুন বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সুরক্ষা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ১৩টি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকছে নতুন বাজেটে। পাশাপাশি দেশের ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান
উদ্যোক্তাদের সহায়তায় এবারের বাজেটে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত সেবাগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। এছাড়া বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যয়ের অর্থ জোগাতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪path কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর বহির্ভূত রাজস্ব আয়ের খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। কর ব্যবস্থা সহজ করতে কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল ও সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব আসতে পারে।
মূল চ্যালেঞ্জসমূহ
অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিটি মানুষের কথা মাথায় রেখে বাজেট করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা এবং রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় নতুন অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির চাপ সামলানো এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হবে।