
একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। আজ শনিবার জাতীয় সংসদে চলমান বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতি তিনি এই আহ্বান জানান। সংসদীয় অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়নে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “সাম্প্রতিক জুলাই-যোদ্ধাদের অবদান যেমন অনস্বীকার্য এবং তাদের ভাতা অবশ্যই বাড়ানো উচিত, ঠিক তেমনি আমাদের একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কোনোভাবেই ভোলা যাবে না। আমাদের ইতিহাসকে মনে রেখে সবাইকে সাথে নিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশ গঠনে এগিয়ে যেতে হবে।”
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবে বিরোধী দলের সমর্থন ও ইতিবাচক অবস্থান জানানোকে স্বাগত জানান এই সংসদ সদস্য। বিষয়টিকে একটি সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
একই সাথে সংসদের কার্যধারা ও আলোচনার মানদণ্ড বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সংসদে যেকোনো বিষয়ে সমালোচনা করার অধিকার অবশ্যই সবার রয়েছে। তবে সেই সমালোচনা যেন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং সম্পূর্ণ গঠনমূলক হয়। সব ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে বা মনগড়া সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পরিপন্থী। তাই সবাইকে সংসদীয় রীতি মেনে দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বাজেট বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরীর পূর্ববর্তী একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সংসদে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কার কী ভূমিকা ছিল, তা ইতিহাস ও জনগণ ভালো করেই জানে। তাই নিজেদের অতীত ইতিহাস নিজেদেরই বিচার করার পরামর্শ দেন তিনি। পরিশেষে তিনি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংসদের ভেতর ও বাইরে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।