এবারের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মান অত্যন্ত ভালো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিবেদক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দেশব্যাপী শিশুদের অন্ধত্ব ও হামের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আনুষ্ঠানিক ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এবারের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল টিকার মান অত্যন্ত ভালো এবং সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

গতকাল রোববার (২৮ জুন) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে মন্ত্রী দেশব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের পর বিশ্বখ্যাত সংস্থা ইউনিসেফের (UNICEF) প্রত্যক্ষ মাধ্যমে এই উন্নতমানের জীবনরক্ষাকারী টিকা দেশে আমদানি করা হয়েছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এবারের জাতীয় পুষ্টি ক্যাম্পেইনে দেশের ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর একটি বৃহৎ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের জনস্বাস্থ্য বিভাগের কাছে লাল ও নীল রঙের মোট ২ কোটি ৬০ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। ফলে ভ্যাকসিনের কোনো সংকট বা ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

ক্যাম্পেইনের সময়সীমা ও কার্যকারিতার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি শিশুও যেন এই পুষ্টি সুবিধা থেকে বাদ না পড়ে, সেজন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশেষ টিম গঠন ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ক্যাম্পেইনের প্রথম দিন যদি কোনো শিশু অনিবার্য কারণে টিকা খেতে বাদ পড়ে, তবে সে দ্বিতীয় দিন খাবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রথম দিন থেকে শুরু করে চতুর্থ দিন পর্যন্ত এই কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে একনাগাড়ে চলমান থাকবে। শিশুদের সুস্থ-সবল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি সচেতন অভিভাবককে নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের এই ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত কর্মীদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

error: Content is protected !!