বৈদেশিক ঋণের চাপ, ডলারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ভারতীয় রুপির মান ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বুধবার (১৩ মে) ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার দাঁড়ায় ৯৫.৭৯৫০, যা চলতি বছরে এশিয়ায় কোনো মুদ্রার মানের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন।
রুপির দরপতনের মূল কারণসমূহ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতে।
জ্বালানি নির্ভরতা: বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
ডলারের চাহিদা: আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডলারের চাহিদা এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ রুপির মানকে আরও নিচের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়া স্বর্ণ ও রুপার আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, সাময়িক সংকট মোকাবিলা সম্ভব হলেও মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষণী সংস্থা বার্কলেজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে চলতি বছরের শেষে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯৬.৮০ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। বর্তমানে ভারতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও সংঘাত দীর্ঘ হলে দাম বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।