ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ১৯ minutes ago

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। এই সমঝোতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এলেও, এর স্থায়িত্ব ও শর্তাবলীর স্পষ্টতা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে এখনো রয়ে গেছে অনেক অনিশ্চয়তা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।’ ট্রাম্প দাবি করেন, অতীতের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ব্যর্থতার বিপরীতে তিনি এমন একটি ‘চমৎকার চুক্তি’ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা পুরো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’ নিয়ে আসবে।

শর্তাবলীর অস্পষ্টতা ও বিশ্লেষকদের মত

তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চুক্তির চূড়ান্ত সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করে এর শর্তগুলো কতটা বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তার ওপর। ইরানের সঙ্গে হওয়া এই প্রাথমিক সমঝোতায় সেই স্পষ্টতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, চুক্তিতে সেই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি মার্কিন কর্তৃপক্ষ সরাসরি যাচাই করতে পারবে। তবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা থাকবে এবং তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান মজুদের ভবিষ্যৎ কী হবে— চুক্তির প্রাথমিক শর্তে তা স্পষ্ট করা হয়নি।

৬০ দিনের সময়সীমা ও জ্বালানি বাজার
বর্তমান এই বিশেষ প্রক্রিয়ার মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলগুলোর মধ্যে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকের অধীনে বাকি পক্ষগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরই কেবল চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে।

এদিকে জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন সহসাই আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। সমুদ্রসীমায় জাহাজের জট কমানো, মাইন অপসারণ এবং নিয়মিত তেল পরিবহন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া পূর্বের অবস্থানে পুনরুদ্ধার করতে আরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

আঞ্চলিক সমীকরণ ও ইসরায়েল ফ্যাক্টর
আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এখনও হাতে কয়েক দিন সময় রয়েছে। এই সময়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে পারে, আবার যেকোনো শর্তের দ্বিমত থেকে সমঝোতা ভেঙেও যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তার কারণ হলো ইসরায়েল, যারা শুরু থেকেই এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে সরাসরি জড়িত। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, লেবাননে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার কারণে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর কিছুটা ক্ষুব্ধ ছিলেন। ট্রাম্পের আশঙ্কা ছিল, এই ধরণের পদক্ষেপ প্রায় চূড়ান্ত হওয়া ইরান চুক্তিকে ভেস্তে দিতে পারত। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ চুক্তিতে সম্মত হলেও, আঞ্চলিক নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেঙে পড়তে পারে, যা হরমুজ প্রণালি বন্ধসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।

error: Content is protected !!