আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপের প্রভাবে দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি খালাসের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর ও ব্যবসায়ী সূত্রের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ কমেছে। গত বছরের মার্চ ও এপ্রিলে যেখানে দুই হাজার ৮০০’র বেশি গাড়ি আমদানি হয়েছিল, সেখানে এ বছর একই সময়ে আমদানি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৫০ ইউনিটের মতো।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময়কে গাড়ি ব্যবসার মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। বাজেটের আগে তুলনামূলক কম দামে গাড়ি কেনার আগ্রহ থাকায় এ সময়ে আমদানি বাড়ে। তবে এবার বাজারে সেই গতি দেখা যাচ্ছে না।
রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, ব্যবসায়িক স্থবিরতা এবং ঋণ সুবিধা সীমিত হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে গাড়ি কেনার আগ্রহ কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমদানির ওপর।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানায়, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে। তবে চলতি বছরে আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের কারশেডে গাড়ির সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেক কম দেখা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে নিয়মিত বড় চালানে গাড়ি আমদানি হলেও বর্তমানে সেই প্রবণতা কমেছে। ফলে বন্দরের গাড়ি সংরক্ষণ শেডগুলো আগের তুলনায় অনেকটাই ফাঁকা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরলে এবং বাজারে আস্থা বাড়লে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে।