কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দিলেন বিএনপি নেতা

দেশ এডিশন নিউজ ডেস্ক:
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর শাহ মাহমুদিয়া ডিগ্রি কলেজে পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং বডি) সভাপতি পদে নাম প্রস্তাব করাকে কেন্দ্র করে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার (১৮ মে) দুপুরে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি রিয়াসুল আমিন জামাল সিকদারের নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা এই ঘটনা ঘটায়।

এ ঘটনার পর থেকে ক্ষোভে ও নিরাপত্তাহীনতায় অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার ছুটির দরখাস্ত দিয়ে কলেজে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি পদ নিয়ে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক শাহদত হোসেন বর্তমান ইউনিয়ন সভাপতি রিয়াসুল আমিন জামাল সিকদারের নাম প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে সাবেক কর কমিশনার জাহাঙ্গীর আলমের নাম প্রস্তাব করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো। সরকারি বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষ এমপির সুপারিশকৃত জাহাঙ্গীর আলমের নাম প্রস্তাব আকারে শিক্ষা বোর্ডে পাঠালে ক্ষুব্ধ হন রিয়াসুল আমিন। এর জের ধরেই গত সোমবার দুপুরে সহযোগীদের নিয়ে তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রিয়াসুল আমিন জামাল সিকদার এই কলেজেরই সাবেক প্রভাষক এবং ২০২২ সালে অবসরে যান।

তালা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বিএনপি নেতা রিয়াসুল আমিন জামাল সিকদার বলেন, “অধ্যক্ষ ফ্যাসিবাদের দোসর। তিনি কলেজে অনেক দুর্নীতি করেছেন এবং টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি না যাওয়া পর্যন্ত তালা খোলা হবে না। সে যেন ভালোভাবে অবসরে যেতে না পারে, সেজন্যই তালা দিয়েছি।” স্থানীয় লোকজন ও কলেজের সবাই তাঁকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “বিধিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, স্থানীয় এমপির সুপারিশকৃত নামই প্রস্তাব আকারে শিক্ষাবোর্ডে পাঠাতে হবে। আমি শুধু বিধি মেনে কাজ করেছি। ঘটনার দিন আমি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে ছিলাম এবং সেখানেই তালা লাগানোর খবর পাই।” তিনি আরও জানান, আগামী ২৫ মে তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ এবং তিনি অবসরে যাবেন, তাই এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেগুফতা মেহনাজ জানান, ঘটনার দিনই তিনি রিয়াসুল আমিনকে ফোন করে তালা খোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও কেন এখনও তালা খোলা হয়নি, সে বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

error: Content is protected !!