
দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের জন্য মানসম্মত ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে কারা অধিদফতর। শূন্য পদ পূরণ এবং জরুরি লজিস্টিকস সামগ্রী সরবরাহের মাধ্যমে কারা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বর্তমানে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কারা অধিদফতরের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৪৬টি। এই জনবল কাঠামোকে পুরোপুরি সচল করতে এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে সরকারি পর্যায়ে নানামুখী তৎপরতা চলছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নতুন করে ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুতই তারা বিভিন্ন কারা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
বর্তমানে দেশের ৬৮টি কারাগারের বিপরীতে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে ২৩টি। গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত ও সহজ করতে এই বহরে নতুন যানবাহন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কারা প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন করে আরও ৪৪টি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ নিষ্পত্তি ও চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করার পরপরই এগুলো ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো যুক্ত হলে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কারাগারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব ও শক্তিশালী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদী পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মীরা। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন এই প্রসঙ্গে কারাবিধি সংস্কার এবং কারা হাসপাতালগুলোর স্থায়ী আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, কারা চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ বাড়ানো এবং রোগী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ বন্দিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে গ্রেফতাদের পর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার মতো কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
কারাগারের বিদ্যমান সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, “আমরা আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্যেও প্রতিটি অসুস্থ বন্দির যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। কারা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যখনই প্রয়োজন হয়, তাৎক্ষণিকভাবে বন্দিদের বাইরের বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “চিকিৎসক ও নার্সের স্বল্পতা একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হলেও এটি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখছি। নতুন নার্সদের যোগদান এবং নতুন অ্যাম্বুলেন্সগুলো বহরে যুক্ত হলে চিকিৎসাসেবার মান আগের চেয়ে অনেক উন্নত হবে।”