কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে স্বস্তির অপেক্ষা

আলী হোসেন শ্যামল:
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

রাজধানীর উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে তীব্র গরমের মধ্যে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকায় বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড ও করিডোরে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে চরম অস্বস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বৃহত্তর উত্তরা, তুরাগ, দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তবে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় গরমের সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের ভিড় রয়েছে। অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কয়েকটি স্থানে ফ্যান থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু ফ্যান অচল অবস্থায় রয়েছে বলেও জানিয়েছেন রোগীরা।

উত্তরখানের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, অসুস্থ শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। গরমের কারণে শিশুদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভর্তি এক রোগীর স্বজন কামরুল হাসান জানান, ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বাতাস না থাকায় রোগীদের অস্বস্তি হচ্ছে। তিনি হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে হাসপাতালের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী প্রতিদিন সেবা নিতে আসেন। ফলে গরমের সময়ে ভেতরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, কিছু ফ্যান পুরোনো হয়ে অচল হয়ে গেছে এবং সেগুলো মেরামত ও নতুন ফ্যান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত ফ্যান স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, রোগীদের স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

error: Content is protected !!