কুরআনের আলোকে জুমার দিনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা

ইসলামিক ডেস্ক (দেশ এডিশন)
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

ইসলাম ধর্মে সপ্তাহের প্রতিটি দিনের মধ্যে শুক্রবার তথা জুমাবারকে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। পরিভাষায় একে ‘ইয়াওমুল জুমাআ’ বা সমাবেশের দিন বলা হয়। সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের পরিবর্তে মসজিদে কাতারবদ্ধ হয়ে দুই রাকাত ফরজ সালাত আদায় করা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যাবশ্যকীয় বা ফরজ ইবাদত।

ইসলামিক চিন্তাবিদদের মতে, জুমার দিন কেবল ইবাদতের জন্য নয়, বরং এটি মুসলমানদের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক মেলবন্ধন দৃঢ় করার এক অন্যতম মাধ্যম।

পবিত্র আল-কোরআনে জুমার দিনের গুরুত্ব বর্ণনা করে মহান আল্লাহ তাআলা ‘আল-জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করেছেন। সূরার ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, “হে বিশ্বাসীগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ধাবিত হও এবং কেনাবেচা বন্ধ রাখো। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পারো।” এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, জুমার আজান শোনার পর সমস্ত পার্থিব ব্যস্ততা ত্যাগ করে আল্লাহর ঘরে উপস্থিত হওয়া কতটা জরুরি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং ‘গরিবের হজের দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, মহান আল্লাহ তাআলা সমগ্র জগৎ সৃষ্টির পূর্ণতা দান করেছিলেন এই জুমার দিনে। এই দিনেই আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল।

নবীজী (সা.) আরও এরশাদ করেছেন, জুমার দিন যে ব্যক্তি প্রথমে এবং সুশৃঙ্খলভাবে মসজিদে প্রবেশ করবে, সে একটি উট কোরবানি করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। পর্যায়ক্রমে যারা পরে আসবেন, তাদের জন্যও বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। এছাড়াও জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে বান্দা আল্লাহর দরবারে যা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা-ই কবুল করেন।

জুমার নামাজ আদায়ের জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষ একই কাতারে এসে শামিল হন। এতে ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজার মধ্যকার সামাজিক বৈষম্য দূর হয় এবং ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। নামাজের পূর্বে খতিবদের দেওয়া খুতবা থেকে মুসল্লিরা সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, নৈতিকতা, হালাল উপার্জন এবং মানবিক মূল্যবোধের সুনির্দিষ্ট পাঠ লাভ করেন। ফলে জুমার দিনটি মুসলিম সমাজে আত্মশুদ্ধি এবং সুশৃঙ্খল জীবন গঠনে এক অনন্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

error: Content is protected !!