চরম বিনিয়োগে মন্দা, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে হতাশা

সানজিদা শারমিন :
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও কিছুটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ কমে আসায় অর্থনীতিতে একটি চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

সরকার পরিবর্তনের পর বিনিয়োগ বাড়ার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ—এসব বিষয় বিনিয়োগ পরিবেশে প্রভাব ফেলছে।
এমন পরিস্থিতিতেও সরকার বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগামী প্রায় দেড় বছরে নতুন করে বড় সংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বন্ধ ও অসুস্থ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে বিনিয়োগ উন্নয়নে কাজ করা চারটি প্রধান সংস্থা—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ)—যৌথভাবে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে।
এই পরিকল্পনায় তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—
অবকাঠামো উন্নয়ন
বিনিয়োগ সহায়তা সহজীকরণ
বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি

বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

error: Content is protected !!