চাপ সামলাতে কঠিন শর্তে বৈদেশিক ঋণের পথে সরকার

প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে


দেশের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে মোট প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের পাঁচটি ঋণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারই ‘নন-কনসেশনাল’ বা তুলনামূলক কঠোর শর্তযুক্ত ঋণ। অনুমোদিত অর্থের মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত নন-কনসেশনাল ঋণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কোন উৎস থেকে কত ঋণ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজেট সহায়তার আওতায়—

Asian Development Bank থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার
Japan International Cooperation Agency থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার
Asian Infrastructure Investment Bank থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার
OPEC Fund for International Development থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বলছে, এসব ঋণের সুদহার তুলনামূলক বেশি, গ্রেস পিরিয়ড কম এবং পরিশোধ সময়সীমা কম হওয়ায় এগুলোকে নন-কনসেশনাল হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ঋণের শর্ত ও ব্যবহার
সরকার জানায়, বাজেট সহায়তার অর্থ সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব প্রশাসন জোরদার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা আনতে ব্যয় করা হবে। এ ক্ষেত্রে International Monetary Fund-এর সুপারিশ অনুসরণ করা হচ্ছে।

ঋণের শর্ত অনুযায়ী—

জাইকার ঋণে সুদ প্রায় ৩.০৫%, পরিশোধকাল ৩০ বছর, গ্রেস পিরিয়ড ১০ বছর
এআইআইবির ঋণে সুদ প্রায় ৫.০৮%, মেয়াদ ৩৫ বছর, গ্রেস পিরিয়ড ৫ বছর
ওপেক ফান্ডের ঋণে সুদ প্রায় ৩.৬%, মেয়াদ ১৮ বছর, গ্রেস পিরিয়ড ৩ বছর

অন্যদিকে, এডিবির একটি কর্মসূচির আওতায় মোট ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের প্যাকেজে ৩০০ মিলিয়ন ডলার স্বল্পসুদী (কনসেশনাল) হলেও বাকি ৪৫০ মিলিয়ন ডলার কঠোর শর্তে দেওয়া হবে।

অবকাঠামো খাতে আলাদা ঋণ

বাজেট সহায়তার বাইরে ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক বিনিয়োগ (ট্রাঞ্চ-২)’ প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় ২১০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা, যার বড় অংশই বহন করবে এডিবি।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সরকার কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেগুলো হলো—

কনসেশনাল ঋণ না পাওয়া গেলে তবেই নন-কনসেশনাল ঋণ গ্রহণ
ঋণগ্রহীতার নিজস্ব আয়ে পরিশোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করা
বার্ষিক পরিশোধ ব্যয় রপ্তানি আয়ের ১০% বা সরকারি রাজস্বের ১৫%—যেটি কম, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা
মোট নন-কনসেশনাল বৈদেশিক দায় জিডিপির ১০% এর মধ্যে রাখা

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে এসব ঋণ সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে ঋণের চাপ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা জরুরি।

error: Content is protected !!