
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের অন্যতম প্রবীণ সারথি ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর জন্মভূমি পঞ্চগড়ে বিশেষ প্রার্থনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার আবহাওয়াজনিত কারণে মরহুমের মরদেহ সরাসরি পঞ্চগড়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় জেলা শাখার উদ্যোগে এই বিশেষ বিদায়ী আয়োজনের রূপরেখা তৈরি করা হয়।
গতকাল রোববার (১২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে পঞ্চগড় পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই বিশেষ প্রার্থনা পর্ব সম্পন্ন হয়।
বিশেষ এই বিদায়ী অনুষ্ঠানে অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রার্থনায় জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসনের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ নাগরিক অংশ নিয়ে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
প্রধান আয়োজনের পূর্বে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত স্মরণসভায় বক্তারা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, দেশের আইন অঙ্গনে তাঁর প্রজ্ঞা, ব্যক্তিগত সততা ও সমাজ গঠনে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। জন্মস্থান তেঁতুলিয়ার ভজনপুরের নয়াবাড়ি গ্রামেও তাঁর শৈশব ও কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে স্থানীয় সুধী সমাজ গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিকেল সাড় ৫টায় ভজনপুর ইউনিয়নের নয়াবাড়ি গ্রামে মরহুমের নিজ বাড়ির এলাকায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে আরও একটি বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের এই বিদায়ের প্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব তিন দিনের বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ, বিশেষ স্মৃতি বইয়ে স্বাক্ষর ও অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ এবং মরহুমের আদর্শিক জীবন নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে।
দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গতকাল ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে, যার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। গতকাল বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর বিশেষ বিদায়ী নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অগ্রযাত্রায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংসদ ভবনের নির্ধারিত এলাকায় সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর পরবর্তী দাফন ও শেষ পরিক্রমা সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জাতীয় নীতিনির্ধারক মহল।