
ঝিনাইদহের স্থানীয় কৃষিতে এক নতুন এবং আশাব্যঞ্জক দিগন্তের উন্মোচন করেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১০নং হরিশংকরপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাকড়ীগ্রামের সফল চাষী মোঃ জাকির হোসেন। প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মাত্র ৬ হাজার টাকা পুঁজিতে ইন্ডিয়ান হাইব্রিড জাতের ঝিঙে চাষ করে তিনি এখন আর্থিকভাবে পুরোপুরি স্বাবলম্বী।
জাকির হোসেনের এই স্বল্প খরচে বিপুল ফলনের অভাবনীয় সাফল্য এখন পুরো এলাকার অন্য চাষীদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অনেককে আধুনিক জাতের সবজি চাষে অনুপ্রাণিত করছে।
মোঃ জাকির হোসেন জানান, তিনি নিজের মাত্র ৮ শতাংশ জমিতে সম্পূর্ণ আধুনিক ‘বান’ বা মাচা পদ্ধতিতে উন্নতমানের ইন্ডিয়ান হাইব্রিড জাতের ঝিঙের আবাদ শুরু করেন। সঠিক পরিচর্যার পর বীজ রোপণের মাত্র ৪৫ দিন পর থেকেই তাঁর ক্ষেতে আশাতীত ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন এতটাই চমৎকার যে, প্রতি সপ্তাহে তিনি তার এই ছোট ক্ষেত থেকে ঘরে বসেই ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি করে তাজা ঝিঙে তুলছেন, যা বাজারে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে।
জাকির হোসেনের ক্ষেতের উৎপাদিত ঝিঙেগুলো সাধারণ দেশি ঝিঙের চেয়ে আকৃতি ও গঠনে অনেক বড়, পুষ্ট ও আকর্ষণীয়। ক্ষেতের একেকটি ঝিঙে লম্বায় প্রায় ২ ফিট পর্যন্ত হচ্ছে এবং ওজনে প্রায় ১১০০ গ্রাম (১ কেজি ১০০ গ্রাম) পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সাধারণ সবজির চেয়ে ব্যতিক্রমী ও বিশাল আকৃতির এই ঝিঙে সরাসরি দেখার জন্য প্রতিদিন আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে উৎসুক মানুষ ও স্থানীয় সাধারণ কৃষকেরা জাকির হোসেনের সবজি ক্ষেতে এসে ভিড় জমাচ্ছেন।
বাজারে এই হাইব্রিড সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই বেশ ভালো থাকায় অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তুষ্ট চাষী মোঃ জাকির হোসেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি মাত্র ৬ হাজার টাকা খরচ করে এই ইন্ডিয়ান হাইব্রিড জাতের ঝিঙে চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। মাত্র ৪৫ দিন পর থেকেই নিয়মত ফলন পেতে শুরু করেছি এবং বাজারে এর ভালো দামও পাচ্ছি। আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ৫ মাস পর্যন্ত এই ক্ষেত থেকে একটানা ঝিঙে তুলতে পারব। এই চাষের আয় আমার পরিবারের আর্থিক চিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে।”
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, জাকির হোসেনের মতো প্রান্তিক চাষীদের এমন হাইব্রিড ও উচ্চফলনশীল সবজি চাষের উদ্যোগ দেশের কাঁচাবাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।