বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জরুরি ভিত্তিতে দেশের তেলের মজুত বাড়ানো এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১২টি বিদেশি কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত কোনো কোম্পানিই তেল সরবরাহ করতে পারেনি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, নেদারল্যান্ডস ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের এই কোম্পানিগুলোর ডিজেল, অকটেন ও ক্রুড অয়েল সরবরাহের কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি কোম্পানি জামানত বা পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) জমা দিয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও কাতারের মতো বড় সরবরাহকারীরা ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করায় বিকল্প উৎস খুঁজতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক কম বা বেশি দামের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংকটকালে মজুত নিশ্চিত করতে সব দিক যাচাই করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, “সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রস্তাবিত দামটি ছিল সাময়িক। প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে তেল খালাসের সময়কার আন্তর্জাতিক বাজারদরের (প্ল্যাটস রেট) ভিত্তিতে। বর্তমানে আমরা ৯日の দিনের মজুত নিশ্চিত করতে আগামী তিন মাসের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেছি। এখন আর ডিপিএম পদ্ধতিতে যাওয়া হচ্ছে না।”
এদিকে, দ্রুততম সময়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোম্পানিগুলোকে কার্যাদেশ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে সরাসরি কেনার এখতিয়ার সরকারের থাকলেও কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
বর্তমানে দেশে অর্ধেক তেল জিটুজি এবং বাকি অর্ধেক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। তবে যুদ্ধকালীন সংকট কাটাতে নেওয়া এই বিশেষ উদ্যোগ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজে লাগবে বলে মনে করছে বিপিসি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা