তেহরানে বিশেষ আন্তর্জাতিক শোকানুষ্ঠানের বড় প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় মৃত্যুর কয়েক মাস পর, অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আয়োজন করতে যাচ্ছে ইরান সরকার। খামেনির এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেবল অভ্যন্তরীণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি বিশাল জাতীয় ও আঞ্চলিক অনুষ্ঠানে পরিণত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি। এই লক্ষ্যে ইরান ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাকজুড়ে আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত খামেনির জানাজা ও স্মৃতিচারণকে ঘিরে ব্যাপক ও অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা ইরানের তেহরান, কোম ও মাশহাদ এবং ইরাকের শিয়া অধ্যুষিত পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালাজুড়ে কয়েকদিনের টানা কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছেন। জানাজায় যাতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ উপস্থিতির সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়, ইরান সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, রাজধানী বাগদাদের দক্ষিণে অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের দুটি অত্যন্ত পবিত্র ও ঐতিহাসিক শহর নাজাফ এবং কারবালাতেও আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও বিশেষ শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ইরাকের প্রভাবশালী নিরাপত্তা বাহিনী ‘পুলার মবিলাইজেশন ইউনিটস’ (পিএমইউ) এই আন্তর্জাতিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাপী সরাসরি সম্প্রচার ও কভার করার জন্য স্থানীয় ও বিদেশী গণমাধ্যমকর্মীদের সুনির্দিষ্ট স্বীকৃতিপত্রের জন্য আগাম নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত বিস্তারিত সময়সূচি
ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের একটি আনুষ্ঠানিক ও ধারাবাহিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে। সিএনএন-এর তথ্য ও সেই সূচি অনুসারে আগামী দিনগুলোর কর্মসূচি নিচে তুলে ধরা হলো:

৩ জুলাই (তেহরান): ইরানের রাজধানীতে সমবেত হওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বিদেশী নেতা ও ঊর্ধ্বতন আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ সম্মাননা ও প্রটোকল অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
৪ ও ৫ জুলাই (তেহরান): এই দুই দিন রাজধানী তেহরানের বিখ্যাত ‘ইমাম খোমেনি মোসাল্লায়’ সাধারণ জনসাধারণের জন্য প্রকাশ্য ও উন্মুক্ত শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
৬ জুলাই (তেহরান): এই দিন সকালে রাজধানীজুড়ে একটি বিশাল এবং ঐতিহাসিক জানাজা মিছিল (ফিউনারেল মার্চ) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
৭ জুলাই (কোম): ইরানের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও পবিত্র শহর কোমে খামেনির স্মরণে বিশেষ শোক র্যালি ও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
৮ জুলাই (নাজাফ ও কারবালা): এই দিন ইরানের বাইরে ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ এবং কারবালায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
৯ জুলাই (মাশহাদ): খামেনির শেষ বিদায়ের চূড়ান্ত কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে, যাকে ইরানের শিয়াদের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উত্তর-পূর্বের এই শহরটি মূলত আয়াতুল্লাহ খামেনির নিজস্ব জন্মশহর। এখানেই শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র ও প্রধান তীর্থস্থান ‘ইমাম রেজার মাজারে’ রাষ্ট্রীয় পূর্ণ মর্যাদায় তাঁকে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে।

error: Content is protected !!