জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী মেহজাবীন চৌধুরী–এর অভিনয়জীবনের শুরুটা ছিল কিছুটা অপ্রস্তুত হলেও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। প্রায় দেড় দশক আগে শুরু হওয়া সেই পথচলায় ভয়, দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে আজ তিনি দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম পরিচিত মুখ।
অভিনয়ের শুরুতেই তিনি কাজ করেন নাটক ‘তুমি থাকো সিন্ধু পাড়ে’–তে। এতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন মাহফুজ আহমেদ। শুটিংয়ের আগে সহশিল্পীর কাজ দেখার সুযোগ না থাকলেও পরিবার থেকে তাঁর জনপ্রিয়তার কথা জানতেন মেহজাবীন।
প্রথম শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, শুরুটা ছিল চ্যালেঞ্জিং। শুটিংয়ের আগে কোনো চিত্রনাট্য হাতে পাননি, এমনকি চরিত্র সম্পর্কেও ছিল না স্পষ্ট ধারণা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি কিছুটা ভীত ও নার্ভাস হয়ে পড়েন।
শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। শুটিংয়ের মাত্র দুদিন আগে তাঁকে জানানো হয় কয়েকটি সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি নিয়ে যেতে হবে। তবে চরিত্র অনুযায়ী কী ধরনের পোশাক প্রয়োজন, সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় তিনি দ্বিধায় পড়েন। এমনকি নিজের খরচে পোশাক কিনতে হবে—এ তথ্যটিও আগে জানা ছিল না তাঁর।
প্রথম দিনের শুটিং হয় রাজধানীর ধানমন্ডি, টিএসসি ও চারুকলা এলাকায়। শুটিংয়ে তিনি একা যাননি; সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা। শুরুতে একাধিক টেক দিতে হলেও পরিচালকের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। প্রতিটি দৃশ্য বুঝিয়ে দিয়ে কাজ করায় পরিচালকের দক্ষতায় মুগ্ধ হন তিনি।
শুটিং শেষে প্রথম অভিনয়ের জন্য ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পান মেহজাবীন। কাজ শেষ করে মায়ের সঙ্গে চট্টগ্রামে ফিরে যান এবং শুরুর দিকে নিয়মিত সেখান থেকে ঢাকায় এসে কাজ চালিয়ে যেতে হয় তাঁকে।
নাটক দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে বড় পর্দা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মনোযোগী হয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাঁকে সর্বশেষ দেখা গেছে সাবা সিনেমায়, যা তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্র। এছাড়া তিনি যুক্ত হয়েছেন প্রিয় মালতী সিনেমার সঙ্গেও।
বর্তমানে নাটকের তুলনায় চলচ্চিত্র ও ওটিটি কনটেন্টেই বেশি মনোযোগ দিতে চান মেহজাবীন চৌধুরী। অভিনয়ের শুরুর অনিশ্চয়তা পেরিয়ে এখন তিনি প্রতিষ্ঠিত এক তারকা—যার যাত্রাপথ নতুনদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।