নবীনগরে লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোল্ট্রি খামার, বাড়ছে লোকসান

মোঃ তরিকুল ইসলাম (অনিক)
প্রকাশ: ৫৬ minutes ago

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবনের পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোল্ট্রি খাত। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে খরচ এবং কমেছে আয়, ফলে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন খামারিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনে-রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এতে পোল্ট্রি খামারে মুরগির বাচ্চা লালন-পালনে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব না হওয়ায় অনেক বাচ্চা মারা যাচ্ছে।

নবীনগরের তরুণ খামারি মো. আব্দুল্লাহ বলেন, “বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। খামারে নতুন আনা বাচ্চাগুলোকে ঠিকমতো তাপ দিতে পারছি না। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা থাকে না—এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছি।”

তিনি আরও বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, খরচ বাড়ছে কিন্তু আয় কমছে। এভাবে চলতে থাকলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

উপজেলার আরও কয়েকজন খামারি জানান, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে মুরগি স্টক করা, ব্রুডিং পরিচালনা এবং খামারের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এতে অনেকেই ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন।

এ বিষয়ে নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম আবু ছায়েম বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি। আশা করছি দ্রুত উন্নতি হবে।”

খামারিদের দাবি, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে এ অঞ্চলের পোল্ট্রি শিল্প মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা নবীনগরকে লোডশেডিংমুক্ত এলাকা ঘোষণা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নবীনগরের পোল্ট্রি খাত দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

error: Content is protected !!