ফুটবল বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ তৈরি হচ্ছে পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনকারী শহর শিয়ালকোটে। বিশ্বখ্যাত স্পোর্টস ব্র্যান্ড অ্যাডিডাসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে পাকিস্তানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ফরওয়ার্ড গ্রুপ’ প্রায় ১০ মিলিয়ন ট্রাইওন্ডা বল তৈরির বিশাল এই কাজটি সম্পন্ন করছে। তবে এই মেগা প্রজেক্টকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে কর্মীদের পারিশ্রমিক ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্প্যানিশ শব্দ ‘ট্রাইওন্ডা’-এর অর্থ ‘তিনটি ঢেউ’। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন আয়োজক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মান জানিয়ে এই বিশেষ নকশা করা হয়েছে। এই বলে ৫০০ হার্জের মোশন সেন্সর চিপসহ অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরাসরি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করবে।
বিশ্বের মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশ শিয়ালকোটে তৈরি হলেও এখানকার কর্মীদের মজুরি কাঠামো নিয়ে অধিকারকর্মীরা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শ্রম অধিকার সংস্থা ‘লেবার বিহাইন্ড দ্য লেবেল’-এর প্রতিনিধি আনা ব্রাইহার জানান, বাজারে একেকটি অফিশিয়াল বলের চড়া দাম থাকলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সেই তুলনায় অনেক কম মজুরি পাচ্ছেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অবশ্য পারিশ্রমিক নিয়ে ওঠা এসব প্রশ্ন ও বিতর্ক সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে মূল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ। অ্যাডিডাসের এক মুখপাত্র জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শতভাগ নিয়ম মেনে নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং আইনি কাঠামো অনুযায়ী ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করছে। ফরওয়ার্ড গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হাসান খাজা জানান, তাদের কারখানার অধিকাংশ কর্মীই আধা-দক্ষ এবং তারা স্থানীয় ন্যূনতম আইনি মজুরির চেয়ে অনেক বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।