পাবনা মানসিক হাসপাতালে নজরদারি বাড়ানোর দাবি

প্রতিবেদন: সোলাইমান হোসাইন
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

দেশের অন্যতম বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পাবনা মানসিক হাসপাতাল-এ নিরাপত্তা ও রোগীদের গোপনীয়তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালটিতে রোগী দেখার অজুহাতে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু কনটেন্ট নির্মাতা ভেতরে প্রবেশ করে রোগীদের ভিডিও ধারণ করছেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কিছু আনসার সদস্যের সহযোগিতায় অর্থের বিনিময়ে এসব ব্যক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জনপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকার বিনিময়ে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানসিক রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হাসপাতালের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন, রোগীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত বা অতীতের ট্রমা সংশ্লিষ্ট বিষয় প্রকাশ্যে এলে তাদের মানসিক অবস্থার অবনতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে দুইজন আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ছয় মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, হাসপাতালের ভেতরে অননুমোদিত প্রবেশ ও ভিডিও ধারণ বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অর্থের বিনিময়ে মানসিক হাসপাতালে প্রবেশের বিষয়টি সামনে আসে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনা রোগীর অধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং চিকিৎসা পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর তদারকির প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে।

error: Content is protected !!