ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে সেলেসাওদের এই বর্ণাঢ্য এবং সোনালী ইতিহাসের পাতায় লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত ও রহস্যময় পরিসংখ্যান। ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী বা প্রথম ম্যাচটি যদি ব্রাজিল ড্র করে, তবে সেই আসরে আর কখনোই ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারে না তারা। ইতিহাসে যতবার এমন ঘটেছে, ততবারই ট্রফিহীন ফিরতে হয়েছে সাম্বা বয়দের।
ব্রাজিল এ পর্যন্ত ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই পাঁচটি আসরের প্রতিটিতেই তারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল।
অতীতের সেই ড্র ও ট্রফিহীন আসরসমূহ
ইতিহাস বলছে, ব্রাজিল যখনই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ড্র করেছে, তখনই তাদের বিশ্বকাপ মিশন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আসরগুলো হলো:
১৯৭৪ বিশ্বকাপ: সেবার প্রথম ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয় তাদের।
১৯৭৮ বিশ্বকাপ: এই আসরেও সুইডেনের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে মিশন শুরু করে সেলেসাওরা। সেবার তারা রানার্স-আপও হতে পারেনি, তৃতীয় হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
১৯৮৬ বিশ্বকাপ: এই আসরেও প্রথম দিকে হোঁচট খাওয়ার পর ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয়।
২০১৮ বিশ্বকাপ: রাশিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে আসর শুরু করেছিল নেইমার-কুতিনহোরা। বেলজিয়ামের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল হেক্সা মিশনের খোঁজে নামা ব্রাজিলকে।
প্রথম ম্যাচের জয়ের গুরুত্ব
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবলই একটি কাকতালীয় পরিসংখ্যান হতে পারে, তবে মানসিকভাবে এর একটি বড় প্রভাব রয়েছে। ব্রাজিল এমন একটি দল যারা শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে পছন্দ করে। প্রথম ম্যাচে জয় পেলে দলের আত্মবিশ্বাস যে চূড়ায় পৌঁছায়, তা তাদের চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারালে সেই চাপ সামলে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত যাওয়া ব্রাজিলের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, যা ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে।