প্রবাসী আয় কমলো, কমলো রেমিট্যান্স প্রবাহ

অর্থনীতি প্রতিবেদক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ২৪ minutes ago

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ধারায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে। সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের মাস মে মাসের তুলনায় এটি ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার কম। একই সঙ্গে এই অঙ্ক ২০২৫ সালের জুনের তুলনায় ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার কম। এর ফলে গত ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় আসার যে অনন্য রেকর্ড তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রেমিট্যান্সের এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন। তবে মাসভিত্তিক জুন মাসে আয় কিছুটা কমলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সামগ্রিক প্রবাসী আয় বড় অবদান রাখছে।

টানা ছয় মাসের ধারায় ছেদ
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল। এর মধ্যে—

ডিসেম্বর: ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার
জানুয়ারি: ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার
ফেব্রুয়ারি: ৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার
মার্চ: ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার (অর্থবছরের সর্বোচ্চ)
এপ্রিল: ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার
মে: ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার

তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এসে এই প্রবাহ কমে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ (২.৮১ বিলিয়ন) ডলারে নেমে আসে, যা গত আট মাসের মধ্যে একক মাস হিসেবে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স।

মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স জুনে কিছুটা কমলেও বিদায়ী ২০২৫-২৬ পুরো অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও ইতিবাচক। সদ্য সমাপ্ত এই অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এর আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদদের মতে, মে মাসে পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠানোয় মে মাসের সূচক অনেক উঁচুতে ছিল। ঈদ-পরবর্তী সময়ে এটি একটি স্বাভাবিক মৌসুমি প্রভাব (Seasonal Effect)। এছাড়া বিভিন্ন গন্তব্য দেশে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের স্বাভাবিক পরিবর্তন ও ছুটির কারণে জুন মাসে রেমিট্যান্স কিছুটা কম এসেছে। তবে আগামী মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ আবারও আগের গতিতে ফিরবে এবং ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

error: Content is protected !!