আজ ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০ বছর পূর্তি। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের প্রভাব ও পানিপ্রবাহ সংকটের প্রতিবাদে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঐতিহাসিক লংমার্চ।
সেদিন রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন। পরে লংমার্চটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। আন্দোলনের মাধ্যমে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে প্রভাব পড়ে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন চুক্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের নদী ও কৃষি ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা সভা ও স্মরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও ন্যায্য পানি বণ্টনের স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।