বন্ধ কারখানা সচলে তিন স্তরের অর্থায়ন পরিকল্পনা, ক্রেডিট গ্যারান্টি চায় ব্যাংকগুলো

স্টাফ রিপোর্টার | দেশ এডিশন:
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

দেশে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন কাঠামো গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যাংকগুলো সরকারের কাছে ক্রেডিট গ্যারান্টি চেয়েছে।

রোববার (৪ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদের সভাপতিত্বে ২০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিজনেস ও ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে এনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা অনুযায়ী তিন ধরনের অর্থায়ন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন দেওয়া হবে সেইসব প্রতিষ্ঠানে, যেগুলোর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক থাকলেও কার্যকর মূলধনের অভাবে পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। মধ্যমেয়াদি সহায়তা পাবে এমন প্রতিষ্ঠান, যেগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যন্ত্রপাতি আংশিক অচল বা বাজার সংকটে রয়েছে। আর দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য, যেগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ এবং পুনরায় চালু করতে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন ও অবকাঠামো পুনর্গঠন প্রয়োজন।

তবে ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, এ ধরনের অর্থায়নে ঝুঁকি কমাতে সরকারের গ্যারান্টি জরুরি। প্রস্তাব অনুযায়ী, ঋণ পুনরায় খেলাপিতে পরিণত হলে ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা, অতিরিক্ত জামানত গ্রহণ এবং ঋণ ব্যবহারের ওপর নজরদারিতে পরামর্শক নিয়োগের সুযোগ চাওয়া হয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, পূর্ববর্তী সময়ে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্বলতার কারণে অনেক ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়ন সক্ষমতা কমে গেছে। ফলে নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি সহায়তা ও তহবিলের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।

এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যা বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করতে সম্ভাব্য অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। কমিটি বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গুরুতর আর্থিক অপরাধে জড়িত নয়—এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কম সুদে অর্থায়নসহ অন্যান্য সহায়তার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। তবে নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার কিছু শর্ত থাকায় বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে।

error: Content is protected !!