বাঁশখালীতে জলকদর খাল পরিকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ

বিশেষ আঞ্চলিক প্রতিবেদক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল বাঁশখালী উপজেলার সার্বিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা, গ্রামীণ অববাহিকার কৃষি উৎপাদন সুরক্ষাসমূহ নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অবগঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ পরিকাঠামোগত তদারকি শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। উপজেলার ২১২টি গ্রামের পানি অপসারণের প্রধান সংযোগপথ ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘জলকদর খাল’ এবং এর সাথে যুক্ত বিভিন্ন জলকপাটের (স্লুইসগেট) প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিকায়নের বিষয়ে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের কারিগরি তথ্য এবং কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণে উপজেলার প্রায় ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ এলাকার ফসলিজমি ও গ্রামীণ অববাহিকায় পানি নিষ্কাশনের গতি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় অববাহিকার কোদালা খাল ও আছিয়া খালসহ বিভিন্ন সংযোগ খালের মুখে বিদ্যমান ২৪৬টি স্লুইসগেটের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখছেন প্রকৌশলীরা। পাউবোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন ৮৯টি গেটের মধ্যে সচল ও আংশিক সচল গেটগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু হয়েছে। গুনাগরী, কোকদণ্ডী, চাপাছড়ি ও ইলশা গ্রামের সংযোগস্থলে নবনির্মিত গেটসমূহের পলি ও মাটি অপসারণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে।

সম্প্রতি গণ্ডামারা, সরল, বৈলছড়ি, পুঁইছড়ি, খানখানাবাদ, সাধনপুর ও ছনুয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে স্লুইসগেটসমূহের জলকপাট উন্মুক্ত করে দিয়েছেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম কাদির জানান, মৎস্য সম্পদ ও কৃষি ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের লক্ষ্যে কিছু স্থানে যে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসন করে পানি চলাচলের পথ সুগম করা হচ্ছে।

অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৪ এবং পানি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে ‘পানি ব্যবস্থাপনা সংগঠন’ (ডব্লিউএমও) গঠনের মাধ্যমে গেট পরিচালনার নিয়ম রয়েছে। এই বিধিমালা পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় আইনজীবী ও সুধীসমাজ।

পরিকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে জলকপাটের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি পানি জমা হয়েছিল, যা নিষ্কাশন হতে কিছুটা অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে পানি অপসারণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও আধুনিক করতে স্লুইসগেটের ভেন্ট সংখ্যা ও সংখ্যাগত পরিধি আরও বৃদ্ধি করার জন্য নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। একই সাথে বাঁশখালী উপবিভাগের প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিসম্পন্ন গেটসমূহ ব্যতীত অন্যান্য প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মতান্ত্রিক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও গতিশীল করা হবে।

error: Content is protected !!