দেশের বিদ্যুৎ খাত দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবের অভিযোগে বিতর্কিত। বহু বছর ধরে উচ্চমূল্যের চুক্তি, প্রতিযোগিতাবিহীন প্রকল্প অনুমোদন এবং অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের কথা বিভিন্ন মহলে উঠে এসেছে। কিন্তু এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, বিচার কিংবা জবাবদিহি এখনো দৃশ্যমান নয়—এটাই সবচেয়ে উদ্বেগজনক।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল, অতীতের অনিয়মগুলো উন্মোচিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু নীতিগত পরিবর্তন ও আইনগত সংশোধন হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি সীমিত। এতে করে প্রশ্ন উঠছে—সিস্টেমের ভেতরে থাকা শক্তিশালী স্বার্থগোষ্ঠীগুলো কি এখনো প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে?
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো—যেসব অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অথচ এই অর্থ দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।
একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো খাতই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নই এখানে মূল বিষয়।
জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট—দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ, জবাবদিহির নিশ্চয়তা এবং লুটপাটের সংস্কৃতির অবসান। অন্যথায়, আস্থার সংকট আরও গভীর হবে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।