বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

বিশ্ববাজারে টানা কয়েকদিন জ্বালানি তেলের দাম কমার পর আবারও তা ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলসীমা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা ও চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে।

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনাকারী সংস্থা ওয়েল প্রাইস ডট কমের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দুই প্রধান মানদণ্ড— ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই (ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট) উভয়ের দামই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দশমিক ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৭২ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দাম ১ দশমিক ১৭ শতাংশ লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭০ দশমিক ০৪ মার্কিন ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার, যখন বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের তীব্র পাল্টা অভিযোগ তোলে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জাহাজটি অননুমোদিত ও নিষিদ্ধ এলাকা দিয়ে পার হচ্ছিল।

এর জবাবে রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বিশ্বের প্রধান তেল রুট হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকার আক্রান্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘটনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, শান্তি চুক্তি অমান্য করলে ইরানের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

মার্কিন হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রবিবার ভোরে ইরান তার শক্তিমত্তার জানান দেয়। তেহরানের নির্দেশে কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় দুটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস। এই আকস্মিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়, যা বিশ্ববাজারকে সাথে সাথে অস্থিতিশীল করে তোলে।

তবে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক আলোচনার আশার আলো দেখা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলা বন্ধ করে দুই দেশই আপাতত কূটনৈতিক টেবিলে ফিরে আসতে সম্মত হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের দোহায় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে স্থগিত হওয়া শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। এই আলোচনার অগ্রগতির ওপরই এখন নির্ভর করছে বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেলের পরবর্তী দাম।

error: Content is protected !!