রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকার চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্বপ্না খাতুনকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের যথাক্রমে ৫ লাখ ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার এই অর্থ ভিকটিমের আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। আসামিদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে এই অর্থ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে পল্লবীতে সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও নির্মম ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরদিনই পুলিশ প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রীকে পল্লবী থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফরেনসিক আলামত, ডিএনএ রিপোর্ট ও ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১ জুন অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ২ দিনে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো।
মামলাটির তদন্ত থেকে শুরু করে রায় ঘোষণা পর্যন্ত পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্তমূলক দ্রুততম বিচার হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে আইনি সুশাসন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে।