মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন জাতের আম ও লিচু। তবে এসব ফলে কৃত্রিমভাবে পাকানোর অভিযোগ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত মুনাফার আশায় অপরিপক্ব ফলে বিভিন্ন রাসায়নিক ও হরমোন ব্যবহার করছেন। ফলে বাইরে থেকে পাকা দেখালেও অনেক ক্ষেত্রে ভেতরে কাঁচা ও স্বাদহীন অবস্থার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অপরিপক্ব আম জব্দের ঘটনা নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় এনেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাক থেকে প্রায় ৯ হাজার কেজি আম জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব আম কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হয়েছিল।
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে এখন বিভিন্ন জাতের আম ও লিচু বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, আগাম ফল হওয়ায় দাম তুলনামূলক বেশি। তবে অনেক ক্রেতা ফলের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নয়াপল্টনের বাসিন্দা এক ক্রেতা জানান, বাইরে থেকে পাকা দেখালেও বাসায় নেওয়ার পর কিছু ফলের ভেতরে কাঁচা অংশ পাওয়া গেছে। একই ধরনের অভিযোগ আরও কয়েকজন ক্রেতার কাছ থেকেও পাওয়া গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল পাকাতে অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহার করা হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা অনিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহারে পেটের সমস্যা, মাথা ঘোরা ও দীর্ঘমেয়াদে লিভার-কিডনির জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ফল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া এবং কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিক রঙের ফল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ভোক্তা অধিকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বাজার তদারকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।