ফেনী পৌর যুবদলের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে একটি বিতর্কিত নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে—এ অভিযোগ তুলে সদ্য ঘোষিত কমিটির আট সদস্যের মধ্যে ছয়জন একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
শনিবার রাতে ঘোষিত আংশিক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি সদস্যরা পৃথকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগকারী নেতারা হলেন—সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন, সহসভাপতি মো. সবুজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিল্লাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহিদ, প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন রুবেল এবং দপ্তর সম্পাদক ডালিম মজুমদার।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আট সদস্যবিশিষ্ট এই আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের তালিকায় এনামুল হক সুজনের নাম রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দায়ের করা আরেকটি মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনামুল হক সুজন। তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, সুজন দীর্ঘদিনের কর্মী এবং তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি দলীয় শীর্ষ নেতাদের জানা আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী বলেন, কমিটি গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য তাদের জানা ছিল না। বিষয়টি সামনে আসার পর কমিটির অন্য সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। তিনি জানান, বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।