উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তার বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত রপ্তানি খাত এখন ধারাবাহিকভাবে দুর্বল পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই এ খাতে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সরকারি ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট থেকে টানা আট মাস ধরে রপ্তানি আয় কমেছে—যা দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বশেষ মার্চ মাসেও আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ শতাংশের বেশি, যা চলমান পতনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সংঘাত পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে রপ্তানি আয় কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এছাড়া বিশ্ববাজারে চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন জটিলতাও রপ্তানি খাতের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।