সরকার শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষা খাতের সব ধরনের সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রবিবার সকালে ইউনিসেফ আয়োজিত বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ নিয়ে একটি কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দুটি বড় ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া প্রাথমিকে অধ্যয়নরত সব শিক্ষার্থীকে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে শিগগিরই সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘মিড-ডে মিল’ দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আমরা চাই প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে গড়ে উঠুক। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধসহ বিভিন্ন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
আ ন ম এহছানুল হক মিলন তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে একটি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’-এর সুবিধা শতভাগ কাজে লাগিয়ে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ বৈশ্বিক মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং একটি আধুনিক ‘আগামীর বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
রাজধানীতে আয়োজিত ইউনিসেফের এই উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।
আন্তর্জাতিক সহযোগীদের মধ্যে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন এবং বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশনের মিনিস্টার কাউন্সিলর মাইকেল ক্রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের এই নতুন ও বৈপ্লবিক রূপান্তরকে স্বাগত জানিয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।