শিশুদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ, নিশ্চিত করুন টিকা

স্বাস্থ্য ডেস্ক | দেশ এডিশন:
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ Measles (হাম)। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনগুলো বলছে, দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে শিশুমৃত্যুও ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল কারণ টিকাদান কাভারেজ কমে যাওয়া—২০২৫ সালে প্রায় ৪৪ শতাংশ শিশু নিয়মিত টিকার বাইরে ছিল, যা ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি করে ভাইরাসের দ্রুত বিস্তারকে সহজ করেছে। যেখানে হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুর পূর্ণ টিকাদান।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, হামের টিকার প্রথম ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুই ডোজে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। তবে এক ডোজ নেওয়া, অপুষ্টি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, কম বয়সে সংক্রমণ এবং গ্রামীণ এলাকায় কোল্ড চেইন সমস্যার কারণে টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশু আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া, যারা একেবারেই টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, হাম শুধু জ্বর ও র‍্যাশে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, চোখের ক্ষতি এমনকি বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের জটিলতা। তাই শিশুদের সুরক্ষায় সময়মতো টিকা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার Expanded Programme on Immunization (ইপিআই) কার্যক্রমের আওতায় নিয়মিত টিকার পাশাপাশি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য অতিরিক্ত হাম টিকা প্রদান শুরু করেছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৯ মাসে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ (MMR) গ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে ভিটামিন এ প্রদান এবং জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা—হাম কোনো সাধারণ রোগ নয়; এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায় এবং টিকা ছাড়া আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত। তাই সময়মতো দুই ডোজ টিকা গ্রহণই একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সচেতনতা বাড়ানো এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করলেই এই প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।

error: Content is protected !!