ত্বকের যত্নে বেদানার খোসা, প্রাকৃতিকভাবে ফিরিয়ে আনে লাবণ্য

আজমিরা খানম:
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় ত্বক পেতে আমরা কত কিছুই না করি! বাজারে প্রচলিত নানা রকমের রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহারের দিকেই ঝোঁক বেশি থাকে অনেকের। তবে রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম প্রসাধনীর চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদানেই ত্বকের স্বাস্থ্য সবচেয়ে ভালো থাকে। আর ত্বক সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে তেমনই এক জাদুকরী উপাদান হলো বেদানার খোসা। সাধারণত বেদানা বা ডালিম খাওয়ার পর এর খোসা আমরা ফেলেই দিই। অথচ এই অবহেলিত খোসাই ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধ করতে এবং হারিয়ে যাওয়া লাবণ্য ফিরিয়ে আনতে দারুণ কার্যকরী।

বেদানার খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি, যা ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। কোলাজেন ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা নমনীয়তা ধরে রাখে, ফলে ত্বক সহজে ঝুলে পড়ে না এবং বলিরেখা দূর হয়। এ ছাড়া এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের ভেতরের প্রদাহ কমিয়ে ব্রণ ও ফুসকুড়ির সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ব্যবহারের সহজ উপায়
ত্বকের যত্নে বেদানার খোসা ব্যবহার করা খুবই সহজ। এর জন্য প্রথমে বেদানার খোসা রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। খোসাগুলো একদম মচমচে হয়ে গেলে ব্লেন্ডারে বা শিলপাটায় পিষে গুঁড়ো করে একটি এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন।

উজ্জ্বলতা বাড়াতে ফেসপ্যাক: দুই চামচ বেদানার খোসার গুঁড়োর সাথে এক চামচ মধু এবং সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এটি মুখে ও গলায় লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখুন। এরপর হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বকের কালচে ছোপ দূর করে তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা আনে।

প্রাকৃতিক স্ক্রাবার: বেদানার খোসার গুঁড়োর সাথে সামান্য চালের গুঁড়ো এবং গোলাপ জল মিশিয়ে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বকের মৃত কোশ (Dead Cells) দূর করে ত্বককে কোমল ও মসৃণ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের সুরক্ষায়: যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তারা বেদানার খোসার গুঁড়োর সাথে মুলতানি মাটি ও টকদই মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে ব্রণের উপদ্রব কমায়।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও সতর্কতা
রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, বেদানার খোসা দিয়ে তৈরি ঘরোয়া প্যাক সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করাই যথেষ্ট। এটি রোদে পোড়া ভাব (Sunburn) দূর করতেও সমান কার্যকরী।
তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে যেকোনো নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া জরুরি। মুখের ত্বকে সরাসরি ব্যবহারের আগে কানের পেছনে বা হাতের ত্বকে সামান্য মিশ্রণ লাগিয়ে দেখে নেওয়া উচিত কোনো অ্যালার্জি বা চুলকানি হচ্ছে কিনা। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বকের হারিয়ে যাওয়া লাবণ্য ও তারুণ্য ধরে রাখতে বেদানার খোসা হতে পারে একটি চমৎকার ও সাশ্রয়ী সমাধান।

error: Content is protected !!