বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে হেডফোন ও ইয়ারবাড ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনে গান শোনা, ভিডিও দেখা কিংবা অনলাইন ক্লাসের জন্য দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত উচ্চ শব্দে দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহারের কারণে স্থায়ী শ্রবণহানির ঝুঁকি বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় উচ্চ ভলিউমে গান বা অডিও শোনা কানের ভেতরের সংবেদনশীল অংশে চাপ সৃষ্টি করে। এতে ধীরে ধীরে শ্রবণক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের শ্রবণশক্তি মূলত কানের ভেতরের একটি সূক্ষ্ম অংশের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে ক্ষুদ্র কোষ শব্দকে মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়। অতিরিক্ত শব্দের চাপ এই কোষগুলোর ক্ষতি করতে পারে। একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে তা আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না।
চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ ভলিউমে হেডফোন ব্যবহার করলে কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, শুনতে অসুবিধা বা স্থায়ী শ্রবণ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সচেতনভাবে হেডফোন ব্যবহার করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ
দীর্ঘ সময় একটানা হেডফোন ব্যবহার না করা
ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার অনেক নিচে রাখা
নির্দিষ্ট সময় পরপর কানকে বিশ্রাম দেয়া
নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন ব্যবহার করলে বাইরের শব্দ কম থাকায় কম ভলিউমে শোনা সম্ভব
শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখন থেকেই সচেতনতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে তরুণদের মধ্যে শ্রবণ সমস্যার হার আরও বাড়তে পারে।