সেদ্ধ ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান হলেও এটি সংরক্ষণ ও খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের গরম আবহাওয়ায় সেদ্ধ ডিম দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা নিরাপদ নয়। এ সময়ের মধ্যে ডিম খোসাসহ শুকনো ও পরিষ্কার পাত্রে রাখতে হবে এবং খাওয়ার ঠিক আগে খোসা ছাড়ানো উচিত। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে দৃশ্যমান পরিবর্তন না হলেও ডিমে জীবাণু জন্মাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে সেদ্ধ ডিম এক সপ্তাহ পর্যন্ত খাওয়ার উপযোগী থাকে। এ জন্য সেদ্ধ করার দুই ঘণ্টার মধ্যেই ডিম ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখতে হবে এবং অবশ্যই বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহার করতে হবে। ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা উচিত এবং ডিম ফ্রিজের ভেতরের দিকে সংরক্ষণ করা ভালো, কারণ দরজার কাছে তাপমাত্রা ওঠানামা বেশি হয়। তবে গরম অবস্থায় ডিম ফ্রিজে রাখা যাবে না এবং ডিপফ্রিজে রাখাও ঠিক নয়, এতে স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সেদ্ধ ডিম খাওয়ার আগে কিছু লক্ষণ খেয়াল রাখা জরুরি। ডিম থেকে তীব্র দুর্গন্ধ এলে, খোসা পিচ্ছিল হলে বা অস্বাভাবিক সাদা হয়ে গেলে তা আর খাওয়া উচিত নয়। যদিও ফ্রিজে রাখা সেদ্ধ ডিমে হালকা গ্যাসের মতো গন্ধ হতে পারে, এটি সাধারণত নষ্ট হওয়ার লক্ষণ নয়। এছাড়া ডিম খোসা ছাড়িয়ে সংরক্ষণ করা গেলেও তা এয়ারটাইট পাত্রে রাখতে হবে এবং শুকিয়ে যাওয়া ঠেকাতে প্রয়োজন হলে পাত্রের বাইরে ভেজা কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, সেদ্ধ ডিম কুচি বা টুকরা করে সংরক্ষণ না করাই ভালো, এতে স্বাদ নষ্ট হয়। আর নরম সেদ্ধ ডিম (যার ভেতরটা পুরো শক্ত হয়নি) সর্বোচ্চ দুই দিন পর্যন্ত সংরক্ষণযোগ্য। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সেদ্ধ ডিম সংরক্ষণ ও খাওয়ার ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।