চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত পারকি সমুদ্র সৈকত এখন আর কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং ভাঙনের আতঙ্কেই বেশি আলোচনায়। বর্ষা মৌসুম ও পূর্ণিমার জোয়ার এলেই বদলে যাচ্ছে এই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের চিত্র।
উঁচু জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে সৈকতের বিভিন্ন অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ছে, বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ভাঙন যেন নিয়মিত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে সৈকতের বেশ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধের অস্তিত্বই হারিয়ে গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ভাঙনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন দোকানদার, হোটেল ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা। ফলে জীবিকায় নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সেলিম বলেন, “লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখানে ব্যবসা করছি। কিন্তু বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সবকিছু ঝুঁকির মুখে। দ্রুত অস্থায়ী বাঁধের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান না হলে পারকি সৈকত পর্যটক হারাবে।”
পারকি বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. কাশেম জানান, এই সৈকতকে কেন্দ্র করে শত শত মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। “গত বছর বর্ষা ও পূর্ণিমার জোয়ারে ২০ থেকে ৩০টি দোকান ভেঙে গেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে,” বলেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সৈকত রক্ষায় ‘পারকি সি-বিচ রক্ষা প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। সংস্থাটির চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক জানান, প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, “পারকি সমুদ্র সৈকত আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর একই সমস্যা দেখা দিলেও স্থায়ী কোনো সমাধান নেওয়া হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না। ফলে প্রতিটি জোয়ার-ভাটার মৌসুমেই নতুন করে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।