স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দিকনির্দেশনা

দেশ এডিশন ডেস্ক:
প্রকাশ: ১ দিন আগে

দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং এই খাতের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় করতে পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মী মনোভাবের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রূপরেখা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রতি বছর দেশের বাইরে সেবা গ্রহণের প্রবণতার কারণে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তরিত হচ্ছে। আইনি বাধ্যবাধকতার চেয়ে কর্মকর্তা ও সেবাদানকারীদের আন্তরিক আচরণই জনগণের বিশ্বাস পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এই খাতে ব্যাপক আর্থিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতের পর এবারই দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ চলতি অর্থবছরে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ)। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বরাদ্দ পর্যায়ক্ষণিকভাবে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

পাশাপাশি, প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে সারা দেশে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সুনির্দিষ্ট জনবলের মধ্যে ৮০ শতাংশই হবেন নারী কর্মী, যারা পারিবারিক সচেতনতা ও প্রাথমিক পরার্মশ প্রদানের মাধ্যমে একটি সুস্থ জাতি গঠনে মাঠপর্যায়ে অবদান রাখবেন। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য কেবল হাসপাতাল নির্মাণই যথেষ্ট নয়, বরং নিরাপদ খাদ্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সেবা কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণ ও রাজধানীর বাইরে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বরিশাল ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নবনির্মিত পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে হাসপাতালগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সেবাদানকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

এর আগে, সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিলন চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এই ঐতিহাসিক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বমানের আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উপদেষ্টা ও চিকিৎসা খাতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

error: Content is protected !!