হরমুজ প্রণালি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নতুন নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ১৫ ঘন্টা আগে

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে হওয়া দ্বিপক্ষীয় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘বারবার লঙ্ঘনের’ জন্য মার্কিন প্রশাসনকে দায়ী করে হরমুজ প্রণালিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত ধরনের যান চলাচল স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি। এই নির্দেশনার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই রুট দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

এর আগে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের অভ্যন্তরীণ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ৪৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অভিযানের অংশ হিসেবে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু রাজধানী তেহরান থেকে মাত্র ৪০ মাইল (৬৪ কিলোমিটার) দূরবর্তী অঞ্চলে ছিল। মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন বিমান বাহিনী সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আকাশসীমায় পাহারায় রয়েছে এবং নির্দিষ্ট রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এদিকে এই পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইনে অবস্থিত শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং আহমদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটিতে বিশেষ পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করেছে তেহরান। একই সাথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টাকালে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আইআরজিসি সূত্রে জানানো হয়েছে। এর আগে অঞ্চলটিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ বা দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর দুই পাইলটকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রশাসন ইরানকে “খুব কঠোরভাবে” জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

সামগ্রিক এই উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে উল্লেখ করেন, শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান অনেক বেশি সময় ক্ষেপণ করেছে।

অন্যদিকে মার্কিন এই হুঁশিয়ারির তীব্র নিন্দা ও পাল্টা জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লিখেছেন, “গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হলো সাধারণ জনগণের জীবনরেখা। পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও পানি শিল্পের মতো বেসামরিক খাতগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রক্রিয়া কোনো শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং এটি এক ধরণের হতাশার লক্ষণ।” আন্তর্জাতিক এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও সার্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বৈশ্বিক বিশ্লেষকরা।

error: Content is protected !!