৫ লাখ সরকারি নিয়োগের সিদ্ধান্ত সরকারের

সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ১৩ minutes ago

দেশের সরকারি সেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং নাগরিক সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছে দিতে সরকার বড় ধরনের নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শূন্যপদের বিপরীতে মোট ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরের নির্ধারিত পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

​নিয়োগসংক্রান্ত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, ‘সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে কর্মচাঞ্চল্য বাড়াতে এবং সেবামূলক খাতগুলোকে আরও সক্রিয় করতে শূন্যপদগুলো পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের মানুষকে আরও সহজে ও সুবিধাজনকভাবে সেবা পৌঁছে দিতে এই নিয়োগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই শূন্যপদগুলোতে সুনির্দিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’
​সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে জানানো হয়, ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে শূন্যপদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জনকে নিয়োগের বিশেষ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

​এর আগে বিকেল তিনটায় স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি শুরু হয়। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই প্রথম ৩০ মিনিট নির্ধারিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য। এই নির্ধারিত সময়ে সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং এসংক্রান্ত একাধিক সম্পূরক প্রশ্নের বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট জবাব দেওয়া হয়।

​সংসদে প্রশ্নোত্তর চলাকালীন দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাসী উল্লেখ করে একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্পিকারের মাধ্যমে সংসদকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। দল-মত নির্বিশেষে সকল সংসদ সদস্যের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে সরকারের সম্পূর্ণ এবং সমান সহযোগিতা থাকবে।

​এ প্রসঙ্গে কার্যউপদেষ্টা কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়, সংসদীয় এলাকার যেকোনো সুষম বণ্টন বা উন্নয়নমূলক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো এলাকায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছাতে সাময়িক বিলম্ব হলে তা দ্রুত নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে (যেমন: এলজিআরডি মন্ত্রণালয়) ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন, ঠিক একইভাবে বিরোধীদলীয় সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে কাজ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় বাজেটের সুষম বণ্টন ও সর্বোচ্চ সহযোগিতা বজায় রাখা হবে।

error: Content is protected !!