আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে, বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দেশ এডিশন:
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দিয়েছে।

সপ্তাহের শুরুতে দাম প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধির পর মঙ্গলবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য প্রতি ব্যারেল ১১৪ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ১০৫ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী দুটি জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার সময় ইরানি হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে বলে জানা গেছে।

একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলের তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল কার্যত বিঘ্নিত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে তেলের দামে তথাকথিত “ওয়ার প্রিমিয়াম” যুক্ত হয়েছে, যা দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান উত্তেজনা আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন জাহাজে সরাসরি হামলা হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আলোচনা কিছুটা অগ্রসর হলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে যেন পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়।

এদিকে বিনিয়োগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, বৈশ্বিক তেলের মজুত এখনো সংকটজনক পর্যায়ে না পৌঁছালেও তা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে মজুত দিয়ে প্রায় ১০১ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হলেও মে মাসের শেষে তা ৯৮ দিনে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জেট ফুয়েল ও ন্যাপথার মতো পণ্যের সরবরাহ দ্রুত কমে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

error: Content is protected !!