ত্যাগ, তাকওয়া ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য শিক্ষা নিয়ে মুসলিম উম্মাহর দ্বারে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই দিনে কোরবানির পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যা পালন করা সুন্নত ও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। ইসলামি শরিয়তের আলোকে ঈদের দিন মুসলমানদের উচিত ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করা।
ইসলামি স্কলারদের মতে, ঈদুল আজহার দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন, উত্তম পোশাক পরিধান ও সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করতেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
ঈদুল আজহার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ঈদের নামাজ আদায়। মুসলমানদের উচিত সকালেই ঈদগাহে গিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা। নামাজে যাওয়ার পথে তাকবির পাঠ করা এবং এক রাস্তা দিয়ে গিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসাও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া কোরবানির ঈদে নামাজের আগে কিছু না খেয়ে থাকা মুস্তাহাব। ঈদের নামাজ ও কোরবানি সম্পন্ন করার পর কোরবানির গোশত দিয়ে আহার শুরু করা উত্তম বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ে পশু কোরবানি করার মাধ্যমে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের আদর্শ স্মরণ করা হয়।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, ঈদের আনন্দ যেন অপচয়, অশ্লীলতা কিংবা অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একইসঙ্গে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করাও ঈদের অন্যতম শিক্ষা।